বিনয়ের সাথেই বলছি, আমি একজন মুসলমান এবং এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কম বয়সে অনেকের কাছেই ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান নিয়েছি – ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়; সেসব জ্ঞান ভালো লাগুক বা না লাগুক মনের মধ্যে ঢুকেও গেছে, বিশেষ করে ছোট বেলায় যেগুলো বার বার শুনেছি। এসব জ্ঞান এর মধ্যে একটা বিষয়ে আজ লিখব। উদ্দেশ্য, জনমনে প্রশ্ন তৈরি করা এবং সেখান থেকে উন্নতির পথ খোঁজা।
বিষয়টা কবর । সেই ছোট বেলা থেকে বহুবার শুনেছি, কবর আমাদের আসল ঠিকানা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটা শোনা যেত আধা-প্রফেশনাল ধর্ম প্রচারক আর মরমী শিল্পীদের মাধ্যমে – যাদের আওয়াজ মাইকে শোনার সুযোগ বেশি। বক্তব্য খুব সাধারণ। আমাদের মনে করিয়ে দেয়া, কবর হল আমাদের শেষ ঠিকানা, ওখানে যেতেই হবে। কবরে যেতে হবে, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই, অর্থাৎ মরতে হবে, তাই মরার ফলাফল ভোগ করতেই হবে – হোক তা কবর কিম্বা চিতার আগুন।
কিন্তু সমস্যা হল অন্য জায়গায়। যখন কেউ নিজেকে মুসলমান হিসাবে পরিচয় দেয়, তখন আমরা ধরেই নেই যে সে বা তারা পরকাল, শেষ-বিচার, বেহেশত, দোজখ ইত্যাদি সম্পর্কে জানেন। আর যখন, এগুলো সম্পর্কে কেউ জানেন বা মানেন, তখন মৃত্যু-কবর এগুলো নিশ্চিত, কিন্তু কখনই শেষ গন্তব্য নয়। তাই যখনই কেউ অন্যকে মনে করিয়ে দেন, কবর হল আসল ঠিকানা, খুব অবাক হয়ে ভাবি সমস্যাটা কোথায়! অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইসলাম ধর্মাবলম্বী মরমী সাধকরাই এ ধরনের কথা বলেন। অথচ এ বক্তব্যের উৎস কখনই ইসলাম ধর্ম নয়। তাহলে কেন এ ভাবে আমরা বলি, কি লাভ এতে – মন খারাপ করে দেয়া ছাড়া?
আমি যখন ডেথ অ্যান্ড অ্যাডজাস্টমেন্ট হাইপথেসিস এর আইটারেশন নিয়ে কাজ করছি তখন ইউরোপের ২ হাজার বছরের ইতিহাস থেকে বুঝতে পারি যে, ধর্মে সাধারণ বিশ্বাসীরা অনেক ক্ষেত্রেই পরকালের জীবন নিয়ে ভাবতে অপছন্দ করে কারণ এতে দুনিয়ার সীমাহীন ভোগ বিলাস এর পথে বাধা পড়ে। ফলে এ সকল বিশ্বাসীরা মৃত্যুকে শেষ গন্তব্য হিসাবে উল্লেখ করে অবচেতনে শস্তি পায়। কারণ, এতে পরকালের বিচার আর ততটা গুরুত্বপূর্ণ অনুভুত হয় না। উপরন্তু এ অবস্থায় দুনিয়ার ভোগ বিলাস চালিয়ে যাওয়াটা অনেক সহজ। শুধু সমস্যা হয় যে মৃত্যু তখন অনেক বড় একটা বিষয়ে পরিনত হয়, যতটা বড় পরকালের বিষয় আসয়ের পাশে সে নয়।
আমার ব্যাক্তিগত দৃষ্টিতে তাই আমার দেশের মরমীরাও একই পথে হাঁটেন। মৃত্যু আর কবরকে শেষ ঠিকানা বললে আপাত দৃষ্টিতে তাদের ভীষণ ধর্ম ভীরু আর অন্তর-দৃষ্টি ওয়ালা মনে হলেও, ইসলামিক নিয়মের কথা ভাবলে তা বরং পরকালকে এড়িয়ে যাওয়ার চিহ্ন। আর এর সবচেয়ে বড় কারণ হল, পরকালের চিন্তার আড়ালেই থাকে বিচারের দুশ্চিন্তা, আর তা মাটি করে দিতে পারে আমাদের বহু বড় বড় ভোগ বিলাস – যা ধর্মে পরিষ্কার করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের স্বপ্নই হল একই সাথে আমরা জুমার নামাজে টাকা দান করবো, আবার পরদিন দফতরে বসে টেবিলের নিচ দিয়ে অর্থ গ্রহণ করবো। ফলে, আমরা ইহকাল আর পরকাল দুই জগতেই নিজকে সফল ভেবে সুখি হতে পারব।
হতে পারে আমার এ ধারণা আপনার ভালো লাগেনি বা ঠিক মনে হয় নি! তাহলে মন্তব্যে লিখে ফেলুন আপনার ধারণা, হতে পারে তা আমাকেও উপকৃত করবে!!